পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার জানায়, নামা মহিষতারা গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে মো. দুলাল মহিষতারা আহাম্মদিয়া এতিমখানার মাদরাসার নূরানি বিভাগের ছাত্রী (৯) কে ঈদের দিন সোমবার বিকালে তার শশুর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। এসময় তার নিজের ছোট মেয়েকেও সাথে নিয়ে বটতলা গ্রামে শশুর বাড়িতে যায়। পরে নিজের মেয়েকে শশুর বাড়িতে রেখে ওই শিশুকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুকে একটি ভ্যানে করে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পৌছে দেয়। দুলাল তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে বলে অসুস্থ শিশুটি তার পরিবারকে জানায়। এসময় পরিবারের লোকজন দুলালকে আটক করতে গেলে স্থানীয় মজিদ দুলালকে কৌশলে ভাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ভিকটিককে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এসময় অভিযুক্ত দুলাল পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। উত্তেজিত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ধর্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা আসামীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে আব্দুল মজিদকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মজিদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
ভিকটিকের বড় বোন জানান, ‘দুলাল ঈদের দিন বিকালে তার নিজের মেয়ের সাথে আমার ছোট বোনকে নিয়ে তার শশুর বাড়ি বটতলায় বেড়াতে যায়। পরে সারা রাত আমরা আমাদের বোনের কোন সন্ধান পাইনি। মঙ্গলবার সকালে দুলাল আমার বোনকে নিয়ে আসে। তখন আমরা দেখি আমাদের বোন খুবই অসুস্থ। পরে সে জানায় দুলাল তাকে ধর্ষণ করেছে। এসময় আমার ভাইয়েরা দুলালকে ধরতে গেলে আতিক আর মজিদ দুলালকে কৌশলে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি সমাধানের কথা বলে মজিদ আমার ভাইদের উল্টো সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশ এসে মজিদকে ধরে নিয়ে যায়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে মূল অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করায় মজিদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিম শিশুটিকে চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত দুলালকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে ধরাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
0 Comments